Headlines

ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথার কারণ ও প্রতিকার ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথার কারণ ও প্রতিকার

ডায়াবেটিস রোগীদের কাঁধে ব্যথা বা ফ্রোজেন শোল্ডার বেশি দেখা যায়। জানুন কারণ, লক্ষণ, ঝুঁকি এবং ঘরোয়া ও চিকিৎসাগত প্রতিকার কী হতে পারে।

ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথার কারণ ও প্রতিকার: কেন ফ্রোজেন শোল্ডার হয়?

ডায়াবেটিস শুধু রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না এটি শরীরের বিভিন্ন জয়েন্টেও প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে বয়স ৪০ পার হওয়ার পরে হাড় ও অস্থিসন্ধির স্বাভাবিক ক্ষয় শুরু হয়, ফলে জয়েন্টের ভেতরের সাইনোভিয়াল ফ্লুইড কমে যায়। এ অবস্থায় ডায়াবেটিস রোগীদের কাঁধের ব্যথা অন্যদের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো ফ্রোজেন শোল্ডার বা অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস


ডায়াবেটিস রোগীদের কেন কাঁধে ব্যথা বেশি হয়?

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে কাঁধের জয়েন্টের চারপাশের টিস্যুগুলো শক্ত হয়ে যায়। ধীরে ধীরে কাঁধের নড়াচড়া সীমিত হয়। এর ফলে

  • হাত ওপরে তুলতে কষ্ট
  • পিঠের দিকে হাত নিতে সমস্যা
  • পোশাক পরা কঠিন হয়ে যায়
  • চুল আঁচড়াতে ব্যথা হয়
    এগুলো সবই ফ্রোজেন শোল্ডারের শুরুর লক্ষণ

কাঁধে ব্যথার কিছু সাধারণ কারণ

১. আগের আঘাত বা ভুল ভঙ্গি

ভারী কিছু তুলতে গিয়ে আঘাত পেলেও গুরুত্ব না দিলে তা পরবর্তীতে দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে।

২. স্ট্রোকের পরবর্তী সমস্যা

স্ট্রোকের কারণে হাত কাঁধের নড়াচড়া কমে গেলে কাঁধ শক্ত হয়ে যায়।

৩. সার্ভিক্যাল স্পন্ডিলোসিস

ঘাড়ের এই সমস্যায় রোগীরা হাত কম নাড়েন। ফলে সময়ের সাথে কাঁধ জড়তা দেখা দেয়।

৪. হঠাৎ ব্রেক লাগলে আঘাত

গাড়িতে হঠাৎ ব্রেক করলে হাতল শক্ত করে ধরতে গিয়ে কাঁধে চাপ পড়ে, যা পরে ব্যথার কারণ হয়।


আরও পড়ুনঃ ডায়াবেটিসে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কেন বাড়ে ?


ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথার প্রতিকার

১. অযথা ব্যথানাশকে নয়

কাঁধের ব্যথা খুব তীব্র না হলে নিয়মিত ব্যথানাশক খাওয়া উচিত নয়। মাংসপেশি স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনে মাংসপেশি রিলাক্সেন্ট ব্যবহৃত হতে পারে।

২. ফিজিওথেরাপি হলো মূল চিকিৎসা

ফ্রোজেন শোল্ডারে নিচের থেরাপিগুলো সবচেয়ে কার্যকর:

  • হিট থেরাপি
  • আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি
  • TENS থেরাপি
  • ম্যানুয়াল স্ট্রেচিং
    এছাড়া প্রতিদিন নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করতে হয় যা ধীরে ধীরে কাঁধের নড়াচড়া বাড়ায়।

৩. রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ

অনিয়ন্ত্রিত শর্করা ফ্রোজেন শোল্ডারের ঝুঁকি বাড়ায় ২–৫ গুণ। তাই

  • নিয়মিত সুগার মনিটরিং
  • সুষম খাদ্য
  • নিয়মিত ওষুধ/ইনসুলিন
    খুব গুরুত্বপূর্ণ।

৪. ধৈর্য ধরে নিয়মিত ব্যায়াম

ফ্রোজেন শোল্ডার খুব ধীরে সারে। প্রায় ৬–১২ মাস সময় লাগতে পারে, কখনো ১–২ বছরও।
তাই থেরাপিস্টের পরামর্শ মতো ব্যায়াম নিয়মিত চালিয়ে যেতে হবে।


ডায়াবেটিস রোগীর কাঁধে ব্যথা অবহেলা করলে তা দীর্ঘস্থায়ী ফ্রোজেন শোল্ডারে রূপ নিতে পারে। তাই আগে থেকেই রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ, সঠিক ব্যায়াম ও নিয়মিত ফিজিওথেরাপি হলো এই সমস্যার সর্বোত্তম সমাধান।

➡️ মেডিকেল ভর্তি ও ভর্তি প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত পেতে ভিজিট করুন:
https://www.bebrainer.app/

➡️ সব নোটিশ ও আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন:
https://t.me/bebrainernursing

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *