বাংলাদেশে নার্সিং শিক্ষার মান, শিক্ষক নিয়োগ এবং চাকরির গ্রেড নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষ আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। সরকারি-বেসরকারি মিলিয়ে ১৮৬টি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে টানা সাত দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
বরিশাল নার্সিং কলেজে হামলার ঘটনায় উত্তাল সারাদেশ
৭ মে বুধবার বরিশাল নার্সিং কলেজের সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ঢাকার শেরে বাংলা নগরের নার্সিং কলেজ প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেন।
ঢাকা নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী মো. আবুল হোসেন ইমন জানান
- ৩২টি সরকারি নার্সিং কলেজ
- ১৫৪টি বেসরকারি নার্সিং কলেজ
এসব প্রতিষ্ঠানের চার বছর মেয়াদি বিএসসি নার্সিং শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন।
নার্সিং শিক্ষার্থীদের পাঁচ দফা দাবি বিস্তারিত বিশ্লেষণ
১. ইউজিসি নীতিমালা অনুসারে নার্সিং শিক্ষকদের নিয়োগ বাস্তবায়ন
বর্তমানে নার্সিং কলেজের শিক্ষক নিয়োগে নানা অসঙ্গতির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা চান:
- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এর নীতিমালা অনুসারে
- যোগ্যতার ভিত্তিতে
- স্বচ্ছ ও মানসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ
এতে শিক্ষার মান বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নার্সিং শিক্ষা এগিয়ে যাবে।
২. বিএসসি নার্সদের নবম গ্রেডে সরাসরি নিয়োগ
চার বছর মেয়াদি Bachelor of Science in Nursing (BSc in Nursing) ডিগ্রিধারী নার্সরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করছেন
- সরকারি চাকরিতে ৯ম গ্রেডে নিয়োগ
- পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি
- চিকিৎসা ব্যবস্থায় তাদের ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি
বর্তমানে নিয়োগ কাঠামোর অসামঞ্জস্য তাদের হতাশ করছে।
৩. সংযুক্ত ডিপ্লোমাধারী নার্সদের নিজ কর্মস্থলে পুনর্বহাল
সংযুক্ত বা “ডিটাচড” ডিপ্লোমা নার্সরা দীর্ঘদিন ধরে প্রান্তিক অবস্থায় আছেন। শিক্ষার্থীদের দাবি
- ডিপ্লোমা নার্সদের পূর্বের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফেরত দেওয়া
- প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা
৪. ইন্টার্ন নার্সদের ভাতা ২০,000 টাকায় উন্নীতকরণ
বাংলাদেশের ইন্টার্ন নার্সরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করলেও ভাতা অত্যন্ত কম। শিক্ষার্থীরা ভাতা বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন।
এই দাবি:
- নার্সদের আর্থিক নিরাপত্তা
- কাজের মান উন্নয়ন
- ছাত্র-ছাত্রীদের মানবিক পরিবেশ
সবকিছুর সঙ্গেই যুক্ত।
৫. ডিপ্লোমার পরিবর্তে তিন বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি চালু (বেসরকারি নার্সিং কলেজের সংস্কার)
বেসরকারি নার্সিং কলেজগুলোর জন্য শিক্ষার্থীরা আরও দুটি দাবি উত্থাপন করেছেন
● ইউনিফর্ম টিউশন ফি নির্ধারণ
অতিরিক্ত ফি বন্ধ করতে একটি জাতীয় নীতিমালা জরুরি।
● শিক্ষকদের ন্যূনতম বেতন নির্ধারণ
অভিজ্ঞ শিক্ষক ধরে রাখতে স্থায়ী বেতন কাঠামো প্রয়োজন।
স্মারকলিপি পেশ ও ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন যে তারা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে স্মারকলিপি প্রদান করবেন
- বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (UGC)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
- নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে
- স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে
তারা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
ভর্তি কার্যক্রম বন্ধের আহ্বান
আন্দোলন চলাকালে:
- নতুন ভর্তির বিজ্ঞপ্তি
- ভর্তি পরীক্ষা
- আবেদন গ্রহণ
এসব না করার জন্য শিক্ষার্থীরা কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছেন।
কেন এই আন্দোলন ভবিষ্যৎ নার্সিং পেশার জন্য গুরুত্বপূর্ণ?
- দেশের স্বাস্থ্যব্যবस्थায় নার্সদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
- মানসম্পন্ন শিক্ষা উন্নত চিকিৎসা সেবার ভিত্তি
- আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে নার্সিং পেশা শক্তিশালী হবে
- স্থায়ী পদ ও সঠিক গ্রেড নার্সদের কাজের মান বাড়াবে
এই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন হলে নার্সিং পেশার ভবিষ্যত আরও সুদৃঢ় হবে।
নার্সিং শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন কেবল একটি দাবি-দাওয়া নয় এটি দেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের দাবি।
সঠিক নীতিমালা, যোগ্য শিক্ষক, সঠিক গ্রেড এবং আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে বাংলাদেশের নার্সিং শিক্ষা ও পেশা আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে আরও সহজ হবে।
➡️ মেডিকেল ভর্তি ও ভর্তি প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত পেতে ভিজিট করুন:
https://www.bebrainer.app/
➡️ সব নোটিশ ও আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন:
https://t.me/bebrainernursing