নিম্ন মাধ্যমিক স্তরে জুনিয়র বৃত্তির সংখ্যা ২০ শতাংশ বাড়িয়ে ৫৫ হাজারে উন্নীত ও ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে মাউশি। বাজেট অনুমোদন পেলে শিগগিরই কার্যকর হবে।
নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য বড় আর্থিক প্রণোদনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ‘জুনিয়র বৃত্তি’র সংখ্যা ২০ শতাংশ বা ৯ হাজার ২৪০ জন বাড়ানো এবং মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদান দ্বিগুণ করার প্রস্তাব দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।
সম্প্রতি এ সংক্রান্ত একটি খসড়া প্রস্তাবের সারসংক্ষেপ চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়-এ পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন মিললে প্রস্তাবটি বাজেট যাচাইয়ের জন্য অর্থ বিভাগে পাঠানো হবে।
কী বলছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের যুগ্মসচিব (মাধ্যমিক-১) সাইদুর রহমান জানান,
“মাউশি থেকে বৃত্তির সংখ্যা ও অর্থ বাড়ানোর প্রস্তাব পাওয়া গেছে। নীতিগত অনুমোদন হলে বাজেট বরাদ্দের প্রক্রিয়া শুরু হবে।”
এ বিষয়ে মাউশির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক বি. এম. আব্দুল হান্নান বলেন,
“বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ও এককালীন অনুদান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বাজেট অনুমোদন পেলেই এটি কার্যকর করা হবে।”
কেন বাড়ানো হচ্ছে বৃত্তি
প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫–১৬ অর্থবছরের পর গত ৯ বছর ধরে জুনিয়র বৃত্তির হার অপরিবর্তিত রয়েছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে বর্তমান ভাতা শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত নয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
নতুন কাঠামো ও সংখ্যা
বর্তমানে সারা দেশে ৪৬ হাজার ২০০ জন শিক্ষার্থী জুনিয়র বৃত্তি পায়। প্রস্তাব অনুযায়ী এটি বাড়িয়ে ৫৫ হাজার ৪৪০ জনে উন্নীত করা হবে।
- ট্যালেন্টপুল: ১৪,৭০০ → ১৭,৬৪০ জন
- সাধারণ কোটা: ৩১,৫০০ → ৩৭,৮০০ জন
দ্বিগুণ হচ্ছে বৃত্তির অর্থ
ট্যালেন্টপুল বৃত্তি
- মাসিক: ৪৫০ → ৯০০ টাকা
- বার্ষিক এককালীন: ৫৬০ → ১,১২০ টাকা
- বার্ষিক সুবিধা: ৫,৯৬০ → ১১,৯২০ টাকা
সাধারণ বৃত্তি
- মাসিক: ৩০০ → ৬০০ টাকা
- বার্ষিক এককালীন: ৩৫০ → ৭০০ টাকা
- বার্ষিক সুবিধা: ৩,৯৫০ → ৭,৯০০ টাকা
এই সুবিধা এসএসসি পরীক্ষার আগ পর্যন্ত ২ বছর ভোগ করা যাবে।
বাজেটের চিত্র
বর্তমানে দুই বছরে সরকারের ব্যয় প্রায় ৪২ কোটি টাকা। নতুন হার কার্যকর হলে তা বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১০১ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে প্রায় ৫৯ কোটি টাকা।
আরও বড় পরিকল্পনা
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, শুধু জুনিয়র বৃত্তি নয়—এসএসসি, এইচএসসি ও স্নাতক পর্যায়ের সরকারি বৃত্তির সংখ্যাও আনুপাতিক হারে বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে সরকার।
কর্মকর্তারা আশা করছেন, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা আরও স্বাবলম্বী হবে এবং ঝরে পড়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
➡️ মেডিকেল ভর্তি ও ভর্তি প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত পেতে ভিজিট করুন:
https://www.bebrainer.app/
➡️ সব নোটিশ ও আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন:
https://t.me/bebrainernursing