নারীদের মধ্যে শুষ্ক চোখ, গ্লুকোমা, ক্যাটারেক্ট ও ম্যাকুলার ক্ষয়ের ঝুঁকি বেশি। কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ জানুন এবং চোখ সুস্থ রাখার উপায় শিখুন।
চোখের যেসব রোগ নারীদের বেশি হয়: কারণ, ঝুঁকি ও প্রতিরোধ
নারীদের চোখের কিছু রোগ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়। এর পেছনে রয়েছে হরমোনের পরিবর্তন, বয়সজনিত সমস্যা, গর্ভাবস্থা, মেনোপজ এবং কিছু জীবনধারাগত অভ্যাস। গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বজুড়ে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকি নারীদের মধ্যে পুরুষদের তুলনায় বেশি। তাই নারীদের চোখের স্বাস্থ্যের বিষয়ে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
নিচে নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায় এমন চোখের প্রধান রোগগুলো, তাদের কারণ এবং প্রতিরোধের উপায় বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
১. শুষ্ক চোখ (Dry Eye Syndrome)
নারীদের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ চোখের সমস্যাগুলোর একটি হলো শুষ্ক চোখ।
এস্ট্রোজেন ও প্রোজেস্টেরন হরমোনের পরিবর্তন এই অবস্থাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। বিশেষ করে—
- গর্ভাবস্থায়
- মেনোপজের সময়
- জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি সেবনে
চোখে অস্বস্তি, জ্বালা, চুলকানি, পানি পড়া বা ঝাপসা দেখার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
২. গ্লুকোমা (Glaucoma) দৃষ্টিশক্তির নীরব ঘাতক
গ্লুকোমা এমন একটি রোগ যা চোখের স্নায়ুকে ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
নারীদের মধ্যে ৪০ বছর বয়সের পর বিশেষভাবে ঝুঁকি বেড়ে যায়।
লক্ষণ
- ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কমে যাওয়া
- চোখে চাপ অনুভব করা
- রাতের বেলা কম দেখা
গ্লুকোমা সাধারণত প্রথম দিকে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না, তাই নিয়মিত চেকআপ জরুরি।
৩. ক্যাটারেক্ট (Cataract)
চোখের লেন্স ঘোলা হয়ে যাওয়ার কারণে দৃষ্টিশক্তি কমে যায়।
নারীদের মধ্যে ৫০ বছর বয়সের পর ক্যাটারেক্টের প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
সাধারণ লক্ষণ
- ঝাপসা দেখা
- আলোতে চোখে ব্যথা
- রঙ ঠিকমতো না দেখা
৪. ম্যাকুলার ক্ষয় (Age-related Macular Degeneration – AMD)
ম্যাকুলা হলো রেটিনার কেন্দ্রস্থল, যা স্পষ্টভাবে দেখতে সাহায্য করে।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর অবনতি শুরু হয়, যাকে বয়সজনিত ম্যাকুলার ক্ষয় বলা হয়।
নারীদের মধ্যে AMD-এর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
এতে হতে পারে
- কেন্দ্রীয় দৃষ্টি কমে যাওয়া
- ছোট হরফ পড়তে সমস্যা
- মুখ চিনতে অসুবিধা
৫. থাইরয়েডজনিত চোখের রোগ (Thyroid Eye Disease)
থাইরয়েড হরমোনের ভারসাম্যহীনতা চোখকে সরাসরি প্রভাবিত করতে পারে।
বিশেষ করে গ্রেভস ডিজিজ নারীদের মধ্যে অনেক বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ
- চোখ ফুলে যাওয়া
- লাল হওয়া
- ডাবল ভিশন
- চোখের চারপাশে ব্যথা
৬. ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি (Diabetic Retinopathy)
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না থাকলে চোখের রক্তনালি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা দৃষ্টিশক্তির স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে।
গর্ভকালীন ডায়াবেটিস থাকলে নারীর এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
লক্ষণ
- এক চোখে ঝাপসা দেখা
- চোখের সামনে কালো ছায়া ভাসা
- রাতের বেলা কম দেখা
৭. অপটিক নিউরাইটিস (Optic Neuritis)
এটি চোখের নার্ভের প্রদাহজনিত রোগ যা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দিতে পারে।
এটি অনেক সময় মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস (MS)-এর সঙ্গে সম্পর্কিত, যা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়।
লক্ষণ
- চোখ নাড়ালে ব্যথা
- রঙ ফ্যাকাশে দেখা
- হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া
চোখের রোগ প্রতিরোধে করণীয়
নারীদের চোখ সুস্থ রাখতে কিছু অভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
১. নিয়মিত চোখের পরীক্ষা
বয়স ৪০ পেরোলে বছরে অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানো উচিত।
২. পর্যাপ্ত পানি পান ও পুষ্টিকর খাদ্য
ওমেগা-৩, ভিটামিন এ, সি, ই, জিঙ্ক চোখের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।
৩. স্ক্রিন টাইম কমানো
প্রতি ২০ মিনিটে ২০ সেকেন্ডের জন্য ২০ ফুট দূরে তাকানোর নিয়ম (20-20-20 Rule) অনুসরণ করুন।
৪. রোদে সানগ্লাস ব্যবহার
UV রশ্মি থেকে চোখ সুরক্ষিত রাখে।
৫. ধূমপান এড়ানো
ধূমপান ক্যাটারেক্ট ও ম্যাকুলার ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
হরমোনের ওঠানামা, বয়স, গর্ভাবস্থা এবং কিছু স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে নারীদের চোখের রোগের ঝুঁকি বেশি।
তাই সময়মতো পরীক্ষা, সচেতনতা এবং সঠিক জীবনধারা চোখকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
➡️ মেডিকেল ভর্তি ও ভর্তি প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত পেতে ভিজিট করুন:
https://www.bebrainer.app/
➡️ সব নোটিশ ও আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন:
https://t.me/bebrainernursing