মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে মাইগ্রেশনে অতিরিক্ত ভর্তি ফি’র অবসান ঘটিয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। চলতি শিক্ষাবর্ষে মাত্র ১১০০ টাকায় ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
দেশের মেডিকেল শিক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে চলমান একটি বড় ভোগান্তির অবসান ঘটেছে চলতি শিক্ষাবর্ষে। এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সে ভর্তি শেষে মাইগ্রেশনের সময় অতিরিক্ত ভর্তি ফি পরিশোধের যে বাধ্যবাধকতা ছিল, তা এবার নামমাত্র পর্যায়ে নামিয়ে এনেছে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর। এ সিদ্ধান্তে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এমবিবিএস ও বিডিএস ভর্তি কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন কারণে অনেক শিক্ষার্থী ভর্তি বাতিল করে অন্য মেডিকেল কলেজে চলে যান। ফলে প্রায় প্রতিটি মেডিকেল কলেজেই কিছু আসন শূন্য থেকে যায়। এসব আসন পূরণে একাধিক ধাপে মাইগ্রেশন প্রক্রিয়া চালু থাকলেও আগে প্রতিবারই শিক্ষার্থীদের নতুন করে পূর্ণ ভর্তি ফি দিতে হতো।
নীতিমালা অনুযায়ী আগের মেডিকেল কলেজে জমা দেওয়া ভর্তি ফি কাগজপত্রের সঙ্গে স্থানান্তরযোগ্য হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হচ্ছিল না। ফলে প্রতিবার মাইগ্রেশনে বাড়তি অর্থের চাপ শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের দুর্ভোগে পরিণত হয়েছিল।
এই সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন। এক বছরের মধ্যেই সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হওয়ায় বন্ধ হয়েছে দীর্ঘদিনের একটি অনিয়ম।
চলতি শিক্ষাবর্ষে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ-এ মাইগ্রেশনের মাধ্যমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা মাত্র ১১০০ টাকা ফি দিয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক সন্তোষ দেখা গেছে।
ভর্তি হতে আসা শিক্ষার্থী হাম্মাদ বলেন, “ভর্তি ফি মাত্র ১১০০ টাকা শুনে আমরা সত্যিই অবাক হয়েছি। এই সিদ্ধান্ত আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের জন্য অনেক বড় স্বস্তি।”
আরেক শিক্ষার্থী ফয়সাল জানান, “এত কম ফিতে ভর্তি হওয়া কল্পনাতীত ছিল। দেশের সব মেডিকেলে এই নিয়ম চালু হওয়া উচিত।”
কক্সবাজার মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. সোহেল বকস জানান, “স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা মাইগ্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য ফি যতটা সম্ভব কম রাখার চেষ্টা করেছি।”
সূত্র জানায়, ১১০০ টাকার মধ্যে রয়েছে
বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রেশন ফি ৩০০ টাকা,
অধিভুক্তি ফি ৩০০ টাকা,
ভর্তি ফি ২০০ টাকা এবং
টিউশন ফি ৩০০ টাকা।
এদিকে জামালপুর মেডিকেল কলেজে প্রথম মাইগ্রেশনে ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০০ টাকা এবং অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ভর্তির ক্ষেত্রে ১২ হাজার ৯৫০ টাকা। রাজধানীর মেডিকেল কলেজগুলোতেও ফি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে; যেমন মুগদা মেডিকেল কলেজে মাইগ্রেশনে ভর্তি ফি নেওয়া হয়েছে মাত্র ২৬০০ টাকা।
মেডিকেল শিক্ষায় দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ কমিয়ে মাইগ্রেশনে নামমাত্র ভর্তি ফি নির্ধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য নিঃসন্দেহে একটি স্বস্তির খবর। এতে স্বাস্থ্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ন্যায্যতা ও মানবিকতার ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা মেডিকেল শিক্ষায় আরও উৎসাহিত হবে—এমনটাই প্রত্যাশা সবার।
ভর্তি সংক্রান্ত তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন: 01312-296333
- নার্সিং ভর্তি প্রস্তুতি সম্পর্কে বিস্তারিত পেতে ভিজিট করুন:- https://www.bebrainer.app/
- সব নোটিশ ও আপডেট পেতে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হন:- https://t.me/bebrainernursing