জিপিএ কম এসেছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক ইউনিটে আবেদনই করা যাচ্ছে না। তখন বেশিরভাগ পরিবার একটা কথাই বলে: “জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হয়ে যাও।”
এটা খারাপ পরামর্শ না। কিন্তু একটা প্রশ্ন নিজেকে করো: চার বছর পর হাতে কী থাকবে? এই লেখায় অনার্স আর নার্সিং পাশাপাশি রেখে দেখাব, যাতে তুমি না জেনে কোনো সিদ্ধান্ত না নাও।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন ভর্তি কীভাবে হয়?
অনেকে এখনো ভাবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু রেজাল্ট দেখে ভর্তি হয়। ২০১৫-১৬ থেকে কয়েক বছর তা-ই ছিল। কিন্তু ২০২৪-২৫ থেকে আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু হয়েছে।
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নিয়ম ছিল এমন:
- মানবিক, বিজ্ঞান আর ব্যবসায় শিক্ষার জন্য আলাদা ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা, সময় ১ ঘণ্টা
- ভুল উত্তরে নম্বর কাটা হয় না
- মোট মেরিট ২০০ নম্বরে: পরীক্ষা থেকে ১০০, আর এসএসসি ও এইচএসসির ফল থেকে ১০০ (এসএসসি ৪০%, এইচএসসি ৬০%)
- প্রাথমিক আবেদন ফি ১,০০০ টাকা
- মেরিট তালিকা হয় কলেজ আর বিষয়ের পছন্দক্রম ধরে
ন্যূনতম জিপিএ কত লাগবে, সেটা প্রতি বছরের বিজ্ঞপ্তিতে আসে। আগের বছরগুলোতে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষায় মোট ৬ এর মতো, আর বিজ্ঞানে ৬.৫০ এর মতো চাওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ এর বিজ্ঞপ্তিতে কী থাকবে সেটা দেখে নিও।
নার্সিংয়ে ভর্তি কীভাবে হয়?
নার্সিংয়েও ভর্তি পরীক্ষা হয়, ১০০ নম্বরের MCQ। মেরিট হয় ১৫০ নম্বরে: এসএসসি জিপিএ × ৫, এইচএসসি জিপিএ × ৫, আর পরীক্ষার ১০০।
২০২৫-২৬ এ ডিপ্লোমা নার্সিংয়ে যেকোনো বিভাগ থেকে মোট জিপিএ ৬.০০ (প্রতিটায় ২.৫০) থাকলেই আবেদন করা গেছে। বিএসসি নার্সিংয়ে বিজ্ঞান থেকে ৬.৫০ লেগেছে।
মানে জিপিএর দরজায় দুটো প্রায় একই জায়গায় দাঁড়িয়ে। পার্থক্য তৈরি হয় পরে।
পাশাপাশি তুলনা
| বিষয় | জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স | ডিপ্লোমা বা বিএসসি নার্সিং |
|---|---|---|
| ভর্তি | পরীক্ষা + রেজাল্ট | পরীক্ষা + রেজাল্ট |
| পড়ার সময় | ৪ বছর অনার্স, অনেকে পরে মাস্টার্স | ডিপ্লোমা ৩ বছর, বিএসসি ৪ বছর |
| পড়া কেমন | বেশিরভাগ বিষয়ে সাধারণ ডিগ্রি | একটা নির্দিষ্ট পেশার হাতেকলমে প্রশিক্ষণ |
| পাস করার পর | চাকরির পরীক্ষার জন্য আলাদা প্রস্তুতি | লাইসেন্স পরীক্ষা দিয়ে রেজিস্টার্ড নার্স |
| কাজের জায়গা | যেকোনো খাত, প্রতিযোগিতা অনেক বেশি | হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্যসেবা খাত |
| বিদেশে কাজ | পেশাভিত্তিক সুযোগ কম | নার্সদের জন্য আলাদা পেশাগত পথ আছে |
আসল পার্থক্যটা কোথায়?
একটা ঘরের উদাহরণ দিই। অনার্স অনেকটা একটা বড় খালি ঘরের মতো। জায়গা অনেক, কিন্তু কোথায় কী রাখবে সেটা তোমাকেই পরে ঠিক করতে হবে। পাস করার পর বিসিএস, ব্যাংক বা অন্য চাকরির জন্য আবার আলাদা করে প্রস্তুতি নিতে হয়।
নার্সিং একটা সাজানো রান্নাঘরের মতো। এখানে কী কাজ হবে সেটা আগে থেকেই ঠিক। পড়ার সময়েই হাসপাতালে হাতেকলমে কাজ শেখো, আর পাস করে লাইসেন্স পেলে একটা নির্দিষ্ট পেশায় ঢোকার যোগ্যতা তৈরি হয়।
অনার্সে অনেকে খুব ভালো করে, এটা অস্বীকার করার কিছু নেই। যার কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আগ্রহ আছে, বা যে বিসিএস বা গবেষণার দিকে যেতে চায়, তার জন্য অনার্স ঠিক পথ হতে পারে।
কিন্তু যদি তোমার লক্ষ্য হয় তাড়াতাড়ি একটা নির্দিষ্ট পেশায় দাঁড়ানো, তাহলে নার্সিং বেশি সোজা রাস্তা।
দুটোই কি একসাথে চেষ্টা করা যায়?
হ্যাঁ, এবং অনেকে সেটাই করে। গতবার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আবেদন চলেছে নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত, তিন ধাপে। নার্সিংয়ের পরীক্ষা গত বছর হয়েছিল ২৭ ফেব্রুয়ারি। তারিখ প্রতিবার বদলায়, তাই দুটোর বিজ্ঞপ্তি চোখে রাখো।
একটা কৌশল কাজে লাগে: অনার্সে আবেদন করে রাখো, কিন্তু প্রস্তুতির মূল সময় নার্সিং পরীক্ষার জন্য দাও। নার্সিংয়ে সরকারি আসন পেলে সেখানে যাও। না পেলে অনার্স তো হাতেই আছে।
কার জন্য কোনটা?
অনার্স ভালো যদি:
- নির্দিষ্ট কোনো বিষয় পড়ার প্রবল আগ্রহ থাকে
- বিসিএস বা সাধারণ চাকরির লম্বা প্রস্তুতির ধৈর্য থাকে
- হাসপাতালের পরিবেশ, রোগী বা রক্ত দেখতে অস্বস্তি হয়
নার্সিং ভালো যদি:
- তাড়াতাড়ি একটা পেশায় ঢুকতে চাও
- মানুষের সেবা করতে ভালো লাগে
- পরে দেশে বা বিদেশে স্বাস্থ্যখাতে কাজ করতে চাও
নার্সিং পড়ে কোথায় চাকরি হয় আর বেতন কেমন, তা নিয়ে আলাদা লেখা আছে: নার্সিং পড়ে চাকরি ও বেতন
এখন কী করবে?
নিজের জিপিএ দিয়ে আগে দেখে নাও কোথায় কোথায় আবেদন করা যায়: বিব্রেইনার ভর্তি যোগ্যতা যাচাই টুল
আরও বিকল্প দেখতে পড়ো: জিপিএ কম? কোথায় ভর্তি হওয়া যায়
নার্সিংয়ের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন থাকলে www.bebrainer.app এ ঢুকে দেখো, অথবা ফোন করো +880 1312-296333 নম্বরে।
তথ্যসূত্র: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ ভর্তি নিয়ে প্রথম আলো (১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬), ২০২৪-২৫ নিয়ে দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস (২০ জানুয়ারি ২০২৫), নার্সিং ভর্তির ২০২৫-২৬ বিজ্ঞপ্তি (প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি ২০২৬)।
