এইচএসসির রেজাল্টের পর আমাদের হেল্পলাইনে একটা প্রশ্ন বারবার আসে, আর প্রশ্নটা বেশিরভাগ সময় করে ছেলেরা নিজেই, নয়তো তাদের বাবা মা: “ভাই, ছেলেরা কি নার্সিং পড়তে পারে?”
ছোট উত্তর: হ্যাঁ, পারে। সরকারি নার্সিং কলেজে ছেলেদের জন্য আলাদা করে আসন রাখা থাকে। তবে কিছু শর্ত আছে, আর একটা কোর্সে ছেলেরা আবেদনই করতে পারে না। নিচে সব খুলে বলছি।
নার্সিং কি শুধু মেয়েদের পেশা?
একটা উদাহরণ দিই। আগে মনে করা হতো রান্না শুধু মায়েরাই করবেন। অথচ আজ বড় বড় রেস্তোরাঁর প্রধান রাঁধুনি অনেকেই পুরুষ। নার্সিংও তেমন। আমাদের সমাজে অনেকদিন ধরে এটাকে মেয়েদের কাজ ভাবা হয়েছে, কিন্তু হাসপাতালের ভেতরে গেলে দেখবে আইসিইউ, ইমার্জেন্সি, অপারেশন থিয়েটার, ডায়ালাইসিস ইউনিট সব জায়গায় পুরুষ নার্সরা কাজ করছেন।
রোগীকে তোলা, সরানো, জরুরি অবস্থায় দ্রুত কাজ করা, এসব জায়গায় পুরুষ নার্সের চাহিদা আলাদা করেই আছে। তাই এটা লজ্জার কিছু না। এটা একটা লাইসেন্সধারী, সম্মানজনক পেশা।
সরকারি নার্সিংয়ে ছেলেদের জন্য কত আসন?
২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী:
- সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএসসি নার্সিং আর ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারির ১৫% পর্যন্ত আসন ছেলেদের জন্য
- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত আসনের সর্বোচ্চ ২০% পর্যন্ত ছেলে ভর্তি নেওয়া যায়
- ডিপ্লোমা ইন মিডওয়াইফারিতে শুধু ছাত্রীরা আবেদন করতে পারে, ছেলেরা না
একটা জিনিস খেয়াল করার মতো। ২০২৪-২৫ এ সরকারি প্রতিষ্ঠানে ছেলেদের জন্য ছিল ১০%। পরের বছর সেটা বেড়ে ১৫% হয়েছে। মানে ছেলেদের সুযোগ আগের চেয়ে বেড়েছে।
২০২৬-২৭ এর বিজ্ঞপ্তি এখনো আসেনি। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে এই হার বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে মিলিয়ে নিও।
ছেলেদের জন্য কত জিপিএ লাগে?
ছেলে মেয়ে সবার জন্য জিপিএর শর্ত একই। ২০২৫-২৬ এর নিয়মে:
| কোর্স | বিভাগ | এসএসসি আর এইচএসসি মিলিয়ে | আলাদা শর্ত |
|---|---|---|---|
| বিএসসি নার্সিং (৪ বছর) | শুধু বিজ্ঞান | ন্যূনতম ৬.৫০ | প্রতিটা পরীক্ষায় ৩.০০, এইচএসসি জীববিজ্ঞানে ২.৫০ |
| ডিপ্লোমা নার্সিং (৩ বছর) | যেকোনো বিভাগ | ন্যূনতম ৬.০০ | প্রতিটা পরীক্ষায় ২.৫০ |
তুমি যদি মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা থেকে হও, তাহলে ডিপ্লোমা নার্সিং তোমার জন্য খোলা। বিস্তারিত পড়ো: মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা থেকে নার্সিং পড়া যায়?
আসন কম, তাহলে কি চান্স পাওয়া কঠিন?
সত্যি কথা বলি, আসনের ভাগ কম হওয়ায় ছেলেদের প্রতিযোগিতা নিজেদের মধ্যেই হয়। তবে ভালো খবর হলো, মেরিটের বেশিরভাগ নম্বর আসে ভর্তি পরীক্ষা থেকে।
মেরিট হিসাব হয় এভাবে: এসএসসি জিপিএ × ৫ (সর্বোচ্চ ২৫) + এইচএসসি জিপিএ × ৫ (সর্বোচ্চ ২৫) + ভর্তি পরীক্ষা (১০০)। মোট ১৫০।
মানে জিপিএ থেকে আসে সর্বোচ্চ ৫০, আর পরীক্ষা থেকে ১০০। ধরো তোমার জিপিএ কম, তোমার বন্ধুর বেশি। জিপিএতে তুমি হয়তো ১০ নম্বর পিছিয়ে। কিন্তু পরীক্ষায় ১৫ নম্বর বেশি পেলে তুমিই এগিয়ে। ক্রিকেট খেলার মতো, প্রথম ইনিংসে পিছিয়ে থাকলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়া যায়।
পরীক্ষায় কী আসে?
২০২৫-২৬ এর পরীক্ষা ছিল ১০০ নম্বরের MCQ, সময় ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট।
| বিষয় | বিএসসি নার্সিং | ডিপ্লোমা নার্সিং |
|---|---|---|
| বাংলা | ১৫ | ২০ |
| ইংরেজি | ২০ | ২০ |
| গণিত | ১০ | ১০ |
| বিজ্ঞান | ৪০ | ৩০ |
| সাধারণ জ্ঞান ও মানবিক গুণাবলি | ১৫ | ২০ |
পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি পেলে পাস ধরা হয়। পুরো প্রস্তুতির গাইড এখানে: নার্সিং ভর্তি পরীক্ষা ২০২৭: যোগ্যতা, নম্বর বণ্টন ও প্রস্তুতি
পাস করে ছেলেরা কোথায় কাজ করে?
নার্সিং পাস করে বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (BNMC) লাইসেন্স পরীক্ষা দিতে হয়। লাইসেন্স পেলে তুমি রেজিস্টার্ড নার্স। এরপর কাজের জায়গাগুলো:
- সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স
- বেসরকারি হাসপাতাল আর ক্লিনিক
- আইসিইউ, সিসিইউ, ইমার্জেন্সি আর ওটি, যেখানে পুরুষ নার্সের চাহিদা বেশি চোখে পড়ে
- বাহিনীর হাসপাতালে নার্সিং পদ, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী
- পরে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিদেশে কাজের চেষ্টা, সেই দেশের নিজস্ব লাইসেন্স পরীক্ষা পাস করে
একটা কথা পরিষ্কার করে বলি। পাস করলেই সরকারি চাকরি নিশ্চিত, এমন না। সরকারি চাকরির জন্য আলাদা নিয়োগ পরীক্ষা দিতে হয়। তবে নার্সিংয়ের ডিগ্রিটা একটা নির্দিষ্ট পেশার দরজা খুলে দেয়, যেটা সাধারণ অনেক ডিগ্রিতে পাওয়া যায় না।
বাবা মাকে কীভাবে বোঝাবে?
অনেক ছেলের সমস্যা হলো বাড়িতে রাজি করানো। কয়েকটা কথা বলে দেখতে পারো:
- নার্সিং একটা লাইসেন্সধারী পেশা, ডাক্তারের মতো এরও কাউন্সিল আছে
- ডিপ্লোমা ৩ বছর, বিএসসি ৪ বছর, মানে তাড়াতাড়ি নিজের পায়ে দাঁড়ানো যায়
- সরকারি কলেজে পড়ার খরচ কম
- ডিপ্লোমার পর চাইলে পোস্ট বেসিক বিএসসি নার্সিং করে পড়াশোনা এগিয়ে নেওয়া যায়
নার্সিং আর মেডিকেলের তুলনা দেখাতে চাইলে এই লেখাটা কাজে লাগবে: নার্সিং নাকি মেডিকেল: বাস্তব তুলনা
এখন কী করবে?
প্রথমে নিজের জিপিএ দিয়ে দেখে নাও কোথায় কোথায় আবেদন করা যায়: বিব্রেইনার ভর্তি যোগ্যতা যাচাই টুল
তারপর একটা গোছানো রুটিন ধরো। গত বছর নার্সিংয়ের পরীক্ষা হয়েছিল ফেব্রুয়ারির শেষে। এবারের তারিখ এখনো ঘোষণা হয়নি, কিন্তু হাতে যে কয়েক মাস আছে সেটাই আসল সুযোগ।
বিব্রেইনার নার্সিংয়ে লাইভ ক্লাস, মডেল টেস্ট আর ডাউট সলভিং দিয়ে প্রস্তুতি নেওয়া যায়। কোর্সের বিস্তারিত দেখো www.bebrainer.app এ, অথবা ফোন করো +880 1312-296333 নম্বরে।
তথ্যসূত্র: নার্সিং ভর্তির ২০২৫-২৬ বিজ্ঞপ্তি (প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি ২০২৬)। ২০২৬-২৭ এর বিজ্ঞপ্তি এলে এই লেখা হালনাগাদ করা হবে।
