Headlines

নার্সিং পড়ে চাকরি ও বেতন: সরকারি, বেসরকারি আর বিদেশে সুযোগ

নার্সিং পড়ে চাকরি ও বেতন: সরকারি, বেসরকারি আর বিদেশে সুযোগ

“নার্সিং পড়ে কী হবে? চাকরি পাব তো?” কম জিপিএ পেয়ে যারা নার্সিংয়ের কথা ভাবছ, তাদের মাথায় প্রথম প্রশ্ন এটাই। প্রশ্নটা ঠিক আছে। পড়াশোনার পেছনে সময় আর টাকা দুটোই যাবে, তাই শেষে কী আছে জেনে নেওয়া দরকার।

এখানে কোনো ফোলানো স্বপ্ন দেখাব না। যা নিশ্চিত, তা নিশ্চিত বলব। যা নিশ্চিত না, সেটাও বলব।

প্রথম ধাপ: লাইসেন্স

ড্রাইভিং শিখলেই গাড়ি চালানো যায় না, লাইসেন্স লাগে। নার্সিংও তেমন। ডিপ্লোমা বা বিএসসি পাস করার পর বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (BNMC) লাইসেন্স পরীক্ষা পাস করতে হয়। তারপর তুমি রেজিস্টার্ড নার্স, আর তখনই চাকরির বাজারে ঢোকার আসল দরজা খোলে।

তাই পড়ার সময় থেকেই লাইসেন্স পরীক্ষার কথা মাথায় রাখা ভালো।

সরকারি চাকরি: সিনিয়র স্টাফ নার্স

সরকারি হাসপাতালে নার্সদের প্রবেশ পদ সাধারণত সিনিয়র স্টাফ নার্স। এই পদ জাতীয় বেতন স্কেলের ১০ম গ্রেডে।

বেতন কত? এখানে একটা বড় খবর আছে। প্রায় ১১ বছর পর সরকার নতুন জাতীয় বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেপ্টেম্বর ২০২৬ এ। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী নতুন স্কেলে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০,০০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ১,৫৬,০০০ টাকা, আর নতুন মূল বেতন ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে কয়েক ধাপে কার্যকর হবে।

পুরোনো ২০১৫ সালের স্কেলে ১০ম গ্রেডের মূল বেতন শুরু হতো ১৬,০০০ টাকা থেকে। নতুন স্কেলে ১০ম গ্রেডের মূল বেতন কত হলো, সেটা আমরা এখনো নির্ভরযোগ্য উৎস থেকে মিলিয়ে দেখতে পারিনি, তাই এখানে আন্দাজে কোনো সংখ্যা দিচ্ছি না। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন বা গেজেট দেখে নিও। মূল বেতনের সাথে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ভাতাসহ বিভিন্ন ভাতা যোগ হয়, যা কর্মস্থলের এলাকা অনুযায়ী আলাদা।

নিয়োগ কীভাবে? সরকারি সিনিয়র স্টাফ নার্স নিয়োগ হয় নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) অধীনে। পাস করলেই চাকরি, এমন না। প্রতিযোগিতা আছে, প্রস্তুতি লাগে।

পদোন্নতি: সিনিয়র স্টাফ নার্স থেকে নার্সিং সুপারভাইজার, তারপর সেবা তত্ত্বাবধায়কের বিভিন্ন পদে ওঠার পথ আছে। পদ আর গ্রেড কাঠামো প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে।

সরকারি নার্সিং চাকরির পরীক্ষা নিয়ে পড়ো: সিনিয়র স্টাফ নার্স পরীক্ষায় যে ৭টি ভুলে চাকরি হাতছাড়া হয়

বেসরকারি হাসপাতাল

দেশে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা অনেক। এখানে নার্সের চাহিদাও আছে।

বেতন এখানে কোনো নির্দিষ্ট স্কেলে বাঁধা না। হাসপাতালের আকার, শহর, তোমার অভিজ্ঞতা আর কোন ইউনিটে কাজ করছ (যেমন আইসিইউ, সিসিইউ, ওটি) তার উপর অনেক নির্ভর করে। ছোট ক্লিনিক আর বড় কর্পোরেট হাসপাতালের বেতনে বড় পার্থক্য থাকে। তাই এখানে একটা অঙ্ক বলে দিলে সেটা ভুল বোঝাবে।

যেটা বলা যায়: বিশেষায়িত ইউনিটে অভিজ্ঞতা যত বাড়ে, দর কষাকষির জায়গাও তত বাড়ে।

বিদেশে কাজের সুযোগ

উন্নত অনেক দেশে নার্সের ঘাটতি আছে, আর বাংলাদেশি নার্সদের বিদেশে পাঠানো নিয়ে সরকারও উদ্যোগ নিচ্ছে। সৌদি আরবে বাংলাদেশি নার্স নিয়োগ নিয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে খবরও এসেছে।

তবে বিদেশে যাওয়া সহজ না, এটা জেনে রাখো:

  • প্রতিটা দেশের নিজস্ব লাইসেন্স বা রেজিস্ট্রেশন পরীক্ষা থাকে
  • ভালো ইংরেজি দক্ষতা লাগে, অনেক দেশে IELTS বা OET এর মতো পরীক্ষার স্কোর চায়
  • দেশে কয়েক বছর কাজের অভিজ্ঞতা চাওয়া হয় অনেক জায়গায়
  • কিছু দেশে বিএসসি ডিগ্রি চাওয়া হয়

আর একটা সতর্কতা। “বিদেশে নার্সের চাকরি পাইয়ে দেব” বলে টাকা চাওয়া এজেন্সি থেকে সাবধান। সরকারি বা নিবন্ধিত মাধ্যম ছাড়া টাকা দিও না।

কাজের আরও জায়গা

হাসপাতালের ওয়ার্ড ছাড়াও নার্সরা কাজ করেন:

  • বাহিনীর চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে, বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী
  • এনজিও আর জনস্বাস্থ্য প্রকল্পে
  • নার্সিং কলেজে শিক্ষক হিসেবে, উচ্চতর ডিগ্রির পর
  • হোম কেয়ার আর বয়স্কদের সেবায়

আর ডিপ্লোমা থেকে পোস্ট বেসিক বিএসসি, তারপর মাস্টার্স বা এমপিএইচ করে উচ্চশিক্ষার দিকেও যাওয়া যায়।

তাহলে কম জিপিএ নিয়ে নার্সিং কেন ভাববে?

একটা গাছের উদাহরণ দিই। সাধারণ অনেক ডিগ্রি একটা বীজের মতো, কোথায় লাগাবে আর কী গাছ হবে সেটা পরে বুঝতে হয়। নার্সিং অনেকটা চারা গাছের মতো। শুরু থেকেই জানো এটা কী গাছ, কোথায় লাগাতে হবে।

নার্সিংয়ে পড়া শেষ হতে হতে তুমি একটা নির্দিষ্ট পেশার দক্ষতা নিয়ে বের হও। দেশে সরকারি বেসরকারি দুই জায়গায় কাজের পথ আছে, আর বিদেশের দরজাও খোলা থাকে, যদি তুমি প্রস্তুত থাকো।

আর সবচেয়ে ভালো ব্যাপার, ভর্তির যোগ্যতা অন্য অনেক পেশাগত কোর্সের চেয়ে সহজ। ২০২৫-২৬ এ ডিপ্লোমা নার্সিংয়ে যেকোনো বিভাগ থেকে মোট জিপিএ ৬.০০ হলেই আবেদন করা গেছে। বিস্তারিত: কত জিপিএ পেলে নার্সিংয়ে আবেদন করা যায়

শুরুটা কোথা থেকে?

নিজের জিপিএ দিয়ে কোথায় কোথায় আবেদন করা যায় দেখে নাও: বিব্রেইনার ভর্তি যোগ্যতা যাচাই টুল

তারপর ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি। বিব্রেইনার নার্সিংয়ে ভর্তি প্রস্তুতি থেকে শুরু করে লাইসেন্স পরীক্ষা আর সরকারি চাকরির প্রস্তুতি পর্যন্ত কোর্স আছে। বিস্তারিত দেখো www.bebrainer.app এ, অথবা ফোন করো +880 1312-296333 নম্বরে।

তথ্যসূত্র: জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫; নতুন বেতন স্কেলের প্রজ্ঞাপন নিয়ে সময়ের কণ্ঠস্বর (২০ অক্টোবর ২০২৬) ও এনটিভি (২৯ অক্টোবর ২০২৬) এর প্রতিবেদন; নার্সিং ভর্তির ২০২৫-২৬ বিজ্ঞপ্তি (প্রথম আলো, ১১ জানুয়ারি ২০২৬)। বেতন আর নিয়োগের নিয়ম বদলাতে পারে, সর্বশেষ সরকারি প্রজ্ঞাপন দেখে নিও।

One thought on “নার্সিং পড়ে চাকরি ও বেতন: সরকারি, বেসরকারি আর বিদেশে সুযোগ”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *